ফুলকুমারী, ফুলকুমারী
এবার তোকে দিলাম আড়ি
দিব্যি কেটে বলছি তোকে
আর যাব না তোদের বাড়ি
ঝিনুক বাহার নদীর ধারে
কিম্বা ওই নীল পাহাড়ে
আমার পা পড়বে না আর
চোখের জলও ঝরবে না আর
বলছি তোকে দিব্যি কেটে
পুকুর পাড়ে হেঁটে হেঁটে ,
তোর এখনও মনে পড়ে,
ঘরের চালে নতুন খড়ে
হঠাৎ বসা সেই পাপিয়া?
কিম্বা বেয়াক্কেলে টিয়া
কেমন করে উঠতো ডেকে?
যেই না শোনা কাজল চোখে
তড়িঘড়ি লজ্জা এঁকে
আমার কোলে মুখ লুকোতি !
ঠিক তখনই পুকুর পাড়ে
সবুজ কোনো ঝোপের আড়ে
জল ভরতো এক পোয়াতি !
আমার কোলে মুখ লুকিয়ে
বলতিস তুই ফিসফিসিয়ে
আমি কিন্তু এমন করে
আমার শরীর ভরে গেলে
আসবো না আর পুকুর পাড়ে
তুলবো না জল কলসি ভরে,
আগে থেকে রাখছি বলে
সূর্যিমামা ডুবতো তখন
দূরে কোনো মাঠের আলে
নরম আলো উঠতো নেচে
ওই যে বুড়ো চাঁপার ডালে,
মন খারাপ আমার তখন,
একটু পরেই চলে যাবি !
অন্ধকারে বুকটা আমার
মাছের মত খেতো খাবি !
তোকে ছুঁয়ে বলতাম তাই
রাতেই যদি যাই মরে যাই !
বল না সোনা ফুলকুমারী
তুই কি আমায় ভুলে যাবি ?
আমার ঠোঁটে বসতো তখন
তোর সে আঙুল নক্সিকাঁথা
চোখের জলে যেতিস ভেসে
বালাই ষাট এমন কথা !
দোহাই তুমি আর বোলো না ,
এমন করে বুক ভেঙো না,
হাজার বছর বাঁচবে তুমি--
মরণ হবে আগে আমার ,
থাকবে তুমি আমার কাছে
যেমন আছে ঝিনুক বাহার
ঝিনুক বাহার, ঝিনুক বাহার
নে গিলে নে দু:খ আমার
শোন রে নদী সর্বনেশে
তোর জলেতেই ভেসে ভেসে
এলো সেই রাজার কুমার ,
চোখ ধাঁধানো তার সে তরী
কাড়লো আমার ফুলকুমারী
আঁকছি তবু তারই ছবি
হতভাগা শূন্য কবি ,
দ্যাখ চেয়ে দ্যাখ চোখের জলে
চাঁদ মামাটা যাচ্ছে গলে ;
শোন রে নদী ঝিনুক বাহার
শেষ মিনতি তোকে আমার
ভাসবে কাল সোনার তরী
ফুলকুমার ফুলকুমারী
যত্ন করে ওদেরকে তুই
চাঁদ নগরে পৌঁছে দিবি
No comments:
Post a Comment