এতক্ষণে ময়লা আকাশের ব্যান্ডেজে
যেন রক্ত চুঁইয়ে ভিজিয়ে দিয়েছে ।
গঙ্গার ধারে শেষ বিকেল, হেঁটে যাই
পার্কের মধ্যে দিয়ে - দীর্ঘ টান টান
ইউক্যালিপ্টাসের ছায়া, প্রায় শেষ
রৌদ্রের সঙ্গে খেলা - ক্লান্ত দুজনেই ।
বেঞ্চিগুলো ধীরে ধীরে খালি হয় ।
শুধু এক জায়গায় নিথর যুগল -
অন্ধকার নামছে ওদের ঘিরে
যেমন মঞ্চে অঙ্ক পরিবর্তন
আলো জ্বললে অন্য দৃশ্য, চরিত্র
দুজনের মাঝের আলোকিত শূন্যতা ।
যেন স্টেশনের বেঞ্চিতে বসে
দুজনে আলাদা ট্রেনের অপেক্ষায় ।
একসাথে আসা হল কিছু যাত্রাপথ।
টুকরো হয়ে যাচ্ছে শেষ বিকেলের
আলোর মতো - অস্তিত্বের শেষ অস্ত,
স্বপ্ন ভাঙ্গার দুঃস্বপ্ন ওদের চোখে ভাসে।
আমি পেরিয়ে আসি - অর্থহীন লাগে ।
এক যাত্রার শেষে আবার নতুন যাত্রা ।
আমার পেরনো হয়েছে অনেক রাস্তা ,
বদল হয়েছে স্টেশন, সহযাত্রী অনেক ।।
অন্ধকার আরেকটু ঘন - মাঠ পেরিয়ে যাই
লম্বা গলি ধরি - সার সার গৃহস্থালি দুপাশে
বাল্বের অনুজ্জ্বল আলোয় মলিন ঘর পেরোয়
ভিতরে আটপৌরে অনেক কথাবার্তা - মূল্যহীন ।
একাকী বালকের বই পড়া শুনি - ও কি
স্বপ্ন দেখছে কোনও? হয়তো বা, হয়তো নয়,
এখনও শেখেনি ও স্বপ্ন দেখতে ।। থাক ,
স্বপ্নের সাথে সাথে হাজির হবে দুঃস্বপ্নও ।
বাড়ির দিকে । কাদের দুঃস্বপ্ন ও স্বপ্ন ,
আটপৌরে সংসার পিছু নেয় । একে একে
অদৃশ্য মোড় মোড়ে । সান্ধ্য ভ্রমণ শেষে
আমার জন্য রাত্রির দরজা খোলা থাকে ।।
দীপঙ্কর চৌধুরী
১৫/১২/২০১৩
No comments:
Post a Comment